ইউটিউব ভিডিওর ভিউ বাড়ানোর উপায় । ভিডিও ভাইরালের কার্যকারি উপায়


নতুন ইউটিউব চ্যানেলে  ভিউ কিভাবে বাড়াবেন
নতুন ইউটিউব চ্যানেলে  ভিউজ কিভাবে বাড়াবেন


ইউটিউব চ্যানেলে ভিউ বাড়ানোর উপায়




বর্তমানে বহু সংখ্যক মানুষ অনেক স্বপ্ন নিয়ে  একটা ইউটিউব চ্যানেল শুরু করে। চ্যানেল শুরু করার পর দেখা যায় কিছুদিন পরেও কিন্তু সে ভালো পরিমাণ ভিউজ পায়না। তাদের ভিডিওতে ভালো মতো ভিউজ আসছে না। অনেক কষ্টের পরে দেখা দেয় যে 50 থেকে 100 ভিউজ আসে। আর কোন কোন চ্যানেলে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 200 টার মত। সেক্ষেত্রে আপনার ভিডিও কিভাবে ইউটিউবে ভাইরাল করবেন।



তখন তাদের মাথায় এই প্রশ্নটা আসে যে এত কষ্ট করে ভিডিও তৈরি করছি তাও কেন আমার ভিডিওতে ভিউ আসে না। এই সমস্যাটির সমাধান আজকে ইউটিউব চ্যানেলে ভিউ বাড়ানোর উপায়  আর্টিকেলে আপনারা পেয়ে যাবেন। আজকে আলোচনা করব কেন একটি নতুন চ্যানেলে ভিডিওতে ভিউ আসেনা। এবং একটি নতুন চ্যানেলে কি করে আপনি ভিউ নিয়ে আসবেন।কিভাবে ইউটিউবে আপনর ভিডিও ভাইরাল করবেন।


তো বন্ধুরা এই জিনিসটা জানার জন্য আপনাকে আগে একটা জিনিস জানতে হবে যে ইউটিউব চ্যানেলে বা ভিডিওতে ভিউজ কিভাবে আসে। এই ব্যাপারটা আপনারা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারবেন এই আর্টিকেলটি পড়লেই।



আমরা বা আপনারা যারা ইউটিউবিং করে থাকি তারা কিন্তু একটা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে থাকে। সেটা হচ্ছে ক্রিয়েটর স্টুডিও। যেটা মোবাইলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ক্রিয়েটর স্টুডিও অ্যাপ্লিকেশনটিতে যখন আপনার চ্যানেল দিয়ে লগইন করবেন তখন সেখানে আপনার চ্যানেলের যে সব ডিটেলস আছে সবগুলো পেয়ে যাবেন।


সেখান থেকে আপনি নির্দিষ্ট কোন ভিডিও ডিটেলস দেখতে পারবেন আবার পুরো ইউটিউব চ্যানেল ডিটেলসও দেখতে পাবেন। যখন আপনি সেখানে গিয়ে কোনো একটি ভিডিও বা চ্যানেল এর ডিটেইলস বের করবেন তখন ডিসকভার নামে একটা অপশন পাবেন। সেখান থেকে দেখাবে একটা ভিডিওতে ভিউজ কি কি ভাবে আসে।


এছাড়াও সেখানে আপনারা বেশ কয়েকটি অপশন পাবেন। যেমন


  • ব্রাউজার ফিচার
  • ইউটিউব সার্চ ফিচার
  • সাজেস্ট ভিডিও ফিচার


এছাড়াও আরো কিছু এক্সটার্নাল সোর্সস রয়েছে।এই মাধ্যম গুলোর মাধ্যমেই মূলত ভিডিওতে ভিউ আসে। এখন চলুন এই ফিচারগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।



 ব্রাউজার ফিচার 


সাধারণভাবে আপনাদের মাথায় আসতে পারে এই ব্রাউজার পিকচার টা আবার কি? আর এই  ব্রাউজার ফিচারটি কিভাবেই বা  কাজ করে? তাইতো?


আপনার লক্ষ্য করলে দেখবেন ইউটিউব এর যত বড় বড় চ্যানেল আছে তাদের ভিডিওতে বেশিরভাগ ভিউ আসে কিন্তু এই ব্রাউজার ফিচার থেকেই। তাদের ভিউ আসার মূল সোর্সই হচ্ছে এই ব্রাউজার ফিচার।



ব্রাউজার ফিচারটি কিভাবে কাজ করে 



মনে করুন আমার চ্যানেলের যেকোনো একটা ভিডিও আপনি যদি দেখেন পরবর্তী এক মাসের মধ্যে আমি যে কোন ভিডিও আপলোড করলে সেটা কিন্তু আপনার ইউটিউব এর ব্রাউজারের নিউজফিডে প্রথম পেজে কিন্তু শো করবে। এটা এক মাস পর্যন্ত থাকে।



এখন মনে করুন আপনি বড় কোন চ্যানেলের একটি ভিডিও দেখেছেন। তারপর সেই চ্যানেলটি কোন একটি ভিডিও আপলোড করল সেটা কিন্তু আপনার নিউজ ফিডে  শো করবে। তখন কিন্তু আপনি সেই ভিডিওটি দেখবেন যেহেতু আপনি আগে তার ভিডিও দেখেছেন। সে ক্ষেত্রে সেই চ্যানেলটির কিন্তু ভিউজ বেড়ে গেল। এটাই হচ্ছে মূলত ব্রাউজার ফিচার এর মূল কাজ।


এখন কথা হচ্ছে নতুন যেসব চ্যানেল রয়েছে সেখানে তো মনে করুন 50 থেকে 100 টা ভিউজ আসে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ভিউ আসার সম্ভাবনা কিন্তু খুবই কম। তখন ব্রাউজার ফিচারের গেলেই বা কি। 50 জন বা 30 জনের কাছে ব্রাউজার ‌ফিচারে যাচ্ছে তাহলে তো আপনার এখানে  বেশি পরিবার ইউ আসার কোনো চান্স নাই। তো এখানে আপনাকে ব্রাউজার ফিচারটা কে সাইডে রাখতে হবে। কারণ ব্রাউজার ফিচার নতুন চ্যানেলে ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন গুরুত্বপূর্ণ বা প্রযোজ্য নয়।




সাজেস্ট ভিডিও


একটি নতুন চ্যানেলে ভিউজ বাড়ানোর জন্য ব্রাউজার ফিচার তেমন কার্যকারী না হলেও সাজেস্ট ভিডিও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি নতুন চ্যানেল কে খুব প্রচুর পরিমানের ভিউজ এনে দিতে পারে এই সাজেস্ট ভিডিও।

 



সাজেস্ট ভিডিও কিভাবে কাজ করে



দেখুন ইউটিউবে একই ধরনের টপিক কিন্তু অনেক রয়েছে। একই রকম কনটেন্ট কিন্তু অনেক ইউটিউবার বানায়। মনে করুন how to make money এইরকম কনটেন্ট কিন্তু ইউটিউবে অনেক রয়েছে। অনেক ইউটিউবার কিন্তু এরকম কন্টাক্ট বানিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। মনে করুন আপনি সেই একই কনটেন্টটিতে বানালেন।



তারপর কিন্তু  সেই কনটেন্ট গুলোর নিচে আপনার কনটেন্টি সাজেস্ট করবে বা যে ঐ রিলেটেড কনটেন্ট দেখবে তার নিউজ ফিডে আপনার কনটেন্ট টি সাজেস্ট করবে। হলে আপনার প্রচুর পরিমাণে ভিউজ পাওয়ার চান্স রয়েছে।


এখন হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন  তৈরি হচ্ছে আপনার ভিডিওটিই কেন সাবজেক্ট করবে। আরও তো কত লোক ভিডিও বানিয়েছে তাদের গুলো বাদ দিয়ে আপনার টাই কেন দেখাবে?


এখানে উত্তরটা হচ্ছে ওয়াচ টাইম। আপনি যে ভিডিওটি বানিয়েছেন সেই ভিডিওটি যদি সম্পূর্ণ দেখে থাকে সবাই তাহলে ইউটিউব এর অ্যালগরিদম বুঝবে যে আপনার কনটেন্ট ভালো মানের এখান ভালো কিছু আছে। তখন ইউটিউব কিন্তু আস্তে আস্তে সেই ভিডিওটাকে অন্যের ভিডিও গুলোতে সাজেস্ট ভিডিও হিসেবে শো করাবে। তাই আপনার ভিডিওতে ভিউ বাড়ানোর জন্য ভালো মানের কনটেন্ট এর কোন বিকল্প নেই।




ওয়াচ টাইম কিভাবে বাড়াবেন 


দেখুন ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার পরে আমরা সাধারণত  কি করে থাকি? বেশি ভিউ বাড়ানোর জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও গুলো শেয়ার করে তাইতো।হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মূলত শেয়ার করে থাকি।


এগুলো তে  শেয়ার করাটা কিন্তু ভুল নয়। কিন্তু আপনাকে অডিয়েন্স টার্গেট করে শেয়ার করতে হবে। মনে করুন আমি ইউটিউব রিলেটেড বা টেকনিক্যাল  রিলেটেড   এগুলো ভিডিওর প্রতি ইন্টারেস্টি। আমাকে আপনি যদি এই রিলেটেড ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে শেয়ার করেন তাহলে আমার এই ভিডিওটি দেখার চান্স টা কিন্তু বেশি। 


আবার আমাকে যদি আপনি একটা অন্য কিছুর ভিডিও পাঠান  সে ক্ষেত্রে কিন্তু সেই ভিডিওটি আমার দেখার চান্স খূব কম।



তাই ভিডিও শেয়ার করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাদের যাদের ভিডিও শেয়ার করতেছেন তাদের টার্গেট করে ভিডিও শেয়ার করতে হবে যেন সেই ভিডিওটি আপনি যাকে শেয়ার করতেছেন সে যেন দেখে।



তাছাড়া নতুন অবস্থায় আপনি একটি কাজ করতে পারেন। আপনি যে ভিডিও গুলো তৈরি করেন সেই ভিডিও গুলোকে আপনার ফ্যামিলি মেম্বার বন্ধুবান্ধব তাদের ফোনে চালাবেন। ভিডিওটা চালু করার পর ভিডিওটা স্কিপ বা কাটে দিবেন না। এক্ষেত্রে আপনি ভিডিওটা পুরাটাই দেখবেন।




তাহলে এখান থেকে আপনার ভিডিওটা কিছু ওয়াজ টাইম পেয়ে গেল। ফলে অন্যের  ভিডিওতে আপনার ভিডিওটা সাজেস্ট  ভিডিও হিসেবে শো করবে। এবং কি সার্চ রেজাল্টেও চলে আসবে। সার্চ রেজাল্টের কথা বলতে আর একটা কথা মনে হলো  ইউটিউব ক্রিয়েটর স্টুডিও তে ওখানে লেখা আছে ইউটিউব সার্চ নামে  একটি অপশন।





সার্চের ফান্ডামেন্টাল ব্যাপারটি দেখুন।


সার্চ কখন হয় আমাদের যখন কোন একটি জানার বা কোন কিছু দরকার হয় তখন আমি ইউটিউবে সার্চ করে থাকি। অন্যথায়  কিন্তু আমরা সার্চ করি না। সার্চ থেকে এসব অডিয়েন্স বা ভিজিটর গুলো আসে সেই অডিয়েন্স  গুলো কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই অডিয়েন্স গুলো কে ধরার জন্য আপনাকে টার্গেট করতে হবে। যে তারা তো পার্টিকুলার কোন জিনিস প্রয়োজনের জন্য এল সেই ভিডিওটা দেখতে।



মনে করুন  আমি একটি  ভিডিও তৈরি করেছি কিভাবে একটি নতুন চ্যানেলে ভিউ বাড়ানো যায়। এই টপিকের ওপর। এরপর কিছু অডিয়েন্সেস  ইউটিউবে সার্চ দিয়ে সেই ভিডিওতে পৌঁছালো। এখন দেখুন তারা যারা  ভিডিওটে পৌঁছেছে এখন যদি তারা এই ভিডিওটা সম্পুর্ণ দেখে তাহলে আমি এই ভিডিওটা ফুল ওয়াচ টাইম পেয়ে গেলাম। ফলে ইউটিউব  অ্যালগরিদম ও ভাবল ভিডিওটিতে নিশ্চয়ই কিছু ভালো আছে।



এক্ষেত্রে সাজেস্ট ভিডিওর ক্ষেত্রে আমি যেটা বলছিলাম। ওয়াচ টাইম গুরুত্বপূর্ণ। তখন আপনার টাইটেল, ট্যাগ দেখে ইউটিউব ভাববে এই ভিডিওতে কোয়ালিটি ফুল। ভিডিওটাতে অবশ্যই কিছু ভালো আছে। ওরা তখন সার্চ রেজাল্ট এবং সাজেস্ট ভিডিওতে আপনার ভিডিওটি শো করাবে।



তাই একটি নতুন চ্যানেলে ভিউ বাড়ানোর জন্য সাজেস্ট ভিডিও এবং সার্চ রেজাল্টে শো করানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেকনিক্যাল চ্যানেলের জন্য সাজেস্ট ভিডিও এবং সার্চ রেজাল্ট দুটোই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ব্লগিং করেন তাদের জন্য সাজেস্ট রেজাল্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। 


আপনি যদি একটি ভিডিও ভাইরাল করতে পারেন পরবর্তী ভিডিওগুলোতে  তখন কিন্তু এমনিতেই ভিউ আসতে থাকবে ব্রাউজার ফিচারের মাধ্যমে।



আমার শেষ কথা


এক্ষেত্রে আপনাদের একটাই কথা বলতে চাই আমি কখনো নিরাশ হবেন না। আমি অনেকদিন যাবত ইউটিউব এর সাথে জড়িত রয়েছি। এক্সপেরিয়েন্স গুলো পড়েছি তাই আপনাদের সাথে যেটুকু পারি সেটুকুই  শেয়ার করলাম।



আশা করি পুরো ব্যাপারটা আপনাদের মধ্যে ক্লিয়ার হয়ে গেছে। ইউটিউবে করতে গেলে আপনাকে ধৈর্য কিন্তু ধরতেই হবে। ধৈর্য ধরে আপনাকে কাজ করে যেতে হবে। উপরের টিপসগুলো ফলো করবেন এগুলো নিয়ে রিসার্চ করবেন। যে কোন ভিডিওতে আপনার ভিডিওটি সাজেস্ট করতেছে। সেরকম রিলেটেড ভিডিও বানানোর চেষ্টা করব। একসময় দেখবেন আপনার ভিডিও গুলোতে অন্যের ভিডিওগুলো সাজেক্ট ভিডিও হিসেবে কাজ করতেছে।


আরো পড়ুন




ইউটিউব এর অ্যালগরিদম মুলতো এরকমই। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। কারো যদি কোথাও ঘুরতে সমস্যা হয় না কোন কিছু জানা থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।



0/Post a Comment/Comments