মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন? জানুন 100% কার্যকারী উপায়!



মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন?
মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং


মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন?


অনেকেই জানতে চান যে মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব বা মোবাইল দিয়ে কি অনলাইনে আয় করা সম্ভব।  এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত এবং সঠিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে আপনাদের সামনে আজকে হাজির হয়েছি।



যদি আপনি গুগোল/ইউটিউবে সার্চ দেন মোবাইল দিয়ে কিভাবে আয় করা যায়? মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করব ইত্যাদি লিখে যদি  সার্চ করেন তাহলে দেখবেন হাজার হাজার রকম ভিডিও পাবেন। এগুলো বেশিরভাগই ভিডিওই কিন্তু spam. হয়তো বা তাদের দেওয়া কিছু কিছু সাইটগুলো থেকে সামান্য ইনকাম হলেও হতে পারে। কিন্তু সেই টাকা আপনি ইউদ্রো করতে পারবেন কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই।




এজন্য আপনি যদি আসলেই মোবাইল দিয়ে কোন কাজ করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো কিছু করতে হবে। নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। তারপর আপনি সেই স্কিল দিয়ে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে পারবেন। আপনারা হয়তো শুনে থাকবেন  freelancer upwork fiverr

হচ্ছে বিশ্বের বড় বড় ফ্রীলান্সিং মার্কেটপ্লেস।




তারমধ্যে freelancer.com এ আমি 12000 জব ক্যাটাগরি দেখেছি তারমধ্যে 30/40 টি ক্যাটাগরি পেয়েছি যেগুলো আপনার মোবাইল দিয়েই করতে পারবে।



এই ক্যাটাগরি গুলো কি কি এবং এগুলো কিভাবে কাজ করবেন তা আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করার চেষ্টা করব।



Translation and language


মোবাইল দিয়ে কাজ করতে পারেন এমন ক্যাটাগরি গুলোর মধ্যে ট্রানসলেশন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ অন্যতম। এখন যদি আপনি ট্রানসলেশন এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ক্যাটাগরিতে কাজ করতে চান তাহলে কিন্তু আপনাকে অনেক রকম ভাষা জানতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনি শুধু বাংলা জানেন তাহলে কিন্তু এই কাজটি আপনি করতে পারবেন না।


ট্রান্সলেটর কাজ করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে কোনো একটি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ট্রান্সলেট করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি শুধু একটি ভাষা জানেন তাহলে তো হবে না।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?কিভাবে আফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হয়?


ট্রান্সলেট করার সময় অবশ্যই আপনাকে কোনো না কোনো  ভাষাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করতে হবে। সেটা হতে পারে বাংলা থেকে ইংরেজি। আবার ইংরেজি থেকে বাংলা। বাংলা থেকে উর্দু। হিন্দি থেকে ইংলিশ ইত্যাদি ইত্যাদি ভাষায় রূপান্তর করতে হতে পারে। তার জন্য আপনাকে অবশ্যই তিন থেকে চারটি ভাষা  বা তারও বেশি জানতে হবে। যদি আপনার এই স্কিল গুলো থাকে তাহলে আপনি মোবাইল দিয়েই ট্রান্সলেটর কাজটি করতে পারেন।




Writing and content category



 এছাড়াও রয়েছে রাইটিং এন্ড কনটেন্ট ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরির আন্ডারে আপনি অসংখ্য sub-category পাবেন। যেগুলো আপনি আপনার হাতের মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন। যেমন: আর্টিকেল রাইটিং, আর্টিকেল রিরাইটিং, ব্লগ রাইটিং, ব্লগ কমেন্টিং, অ্যাক্যাডেমিক রাইটিং,ফোরাম পোস্টিং, মেডিকেল রাইটিং, প্রুফরিডিং,প্রডাক্ট ডেসক্রিপশন ইত্যাদি।



অ্যাক্যাডেমিক রাইটিং: মনে করুন আমার কোন একটি পেপার জমা দিতে হবে বা একাডেমিক কিছু কাজ করতে হবে, যেগুলোর লেখালেখির কাজ। কোন একটা বিষয়ের গবেষণালব্ধ তথ্য সাবমিট করতে হবে, সে ক্ষেত্রে  আমি  কিন্তু কাউকে হায়ার করে কাজটা  করতে পারি যে আমার একাডেমিক রাইটিং গুলো লিখে দিবে। এ ধরনের প্রচুর কাজ ফিলান্সিং মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়। যেগুলো খুব সহজে মোবাইল দিয়েই করতে পারবেন।







আর্টিকেল রাইটিং এবং রিরাইটিং



অনেকেই আর্টিকেল রাইটিং এবং রি রাইটিং গুলিয়ে ফেলেন।আর্টিকেল রাইটিং এবং রিরাইটিং আলাদা জিনিস।


রাইটিং হচ্ছে আপনাকে কোনো একটি আর্টিকেল লিখতে হবে। আর রিরাইটিং হচ্ছে আপনাকে বায়ার কোনো একটি আর্টিকেল দিবে, সে আর্টিকেল টিকে  আপনি রিরাইটিং করে দিবেন অর্থাৎ সেগুলো কে আপনি এ দিক সে দিক করে দিবেন কথার মাঝে কিছু পরিবর্তন আনবেন।



বা ক্লায়েন্ট আপনাকে বলবে যে অমুক একটি ওয়েবসাইটে আমি একটি আর্টিকেল দেখেছি তুমি সেই আর্টিকেলটি কে  রিরাইট করে  নতুন একটি আর্টিকেল বানিয়ে দাও। এ ধরনের সহজ কাজগুলো কিন্তু আপনি চাইলেই মোবাইল দিয়ে করতে পারেন। কারণ টাইপিং এর কাজগুলো কিন্তু আমরা মোবাইল দিয়ে খুব ভালোভাবেই করতে পারি। এজন্য আমাদের পিসি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ প্রয়োজন হবে না।



মোবাইল দিয়ে ফিলান্সিং
মোবাইল দিয়ে ফিলান্সিং




ব্লগ রাইটিং



আপনি যদি চান কোন একটি ক্লায়েন্টের জন্য ব্লগিং করবেন। তাকে ব্লগ লিখে দিবেন, তাহলে করতে পারে। এটা কিন্তু আর্টিকেল রাইটিং এর মতই কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লেখালেখি। তাছাড়া আপনি যদি চান নিজেই একটি ব্লগ তৈরি করবেন তাহলেও কিন্তু করতে পারেন। নিদৃষ্ট একটি নিস সিলেক্ট করে ব্লগিং শুরু করতে পারেন। আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে আমার এই কিভাবে  ব্লগিং করে আয় করবো আর্টিকেলটি অবশ্যই পড়বেন। এখানে আমি মোবাইল দিয়ে কিভাবে ব্লগিং করা যায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।



একটু আগে যে বললাম নিস! অনেকে হয়তো ভাবতেছেন নিস টা কি? আসলে নিস হচ্ছে কোন একটি বিষয় বা কোন একটি টপিক। যেই বিষয় টার  উপর  আপনি ব্লগি  বা লেখালেখি করবেন। মনে করুন হেলথ একটা নিস। আপনি হেলথ রিলেটেড যে ব্লগগুলো লিখবেন সেটাই হচ্ছে আপনার হেলথ নিস ব্লগ।




ফোরাম পোস্টিং



ফোরাম পোস্টিং এর কাজ হচ্ছে যে , আপনাকে ক্লায়েন্ট কোনো ফোরামের লিস্ট দিবে বা আপনাকে লিস্ট গুলো খুজে বের করতে হবে। ধরুন আমি কোন একটি বিষয় নিয়ে হতে পারে আমার একটি ওষুধ যেকোনো ধরনের পণ্য রয়েছে সেটা আমি  প্রমোট করতে চাচ্ছি বিভিন্ন ফোরামে। তো এই যে মেডিকেল রিলেটেড যত ধরনের ফোরাম রয়েছে সবগুলো ফোরামের একটি লিস্ট করব এবং সেখানে গিয়ে গিয়ে আমি কমেন্ট বা পোস্ট করব।



এক্ষেত্রে এখানে কিছু নিয়ম রয়েছে। আপনি শুরুতেই প্রোডাক্ট এর লিংক সেখানে প্রমোট করতে পারবেন না। আপনাকে অনেকভাবে ফোরাম প্রোফাইল গ্রো করতে হবে। এই বিষয়গুলো মূলত ফোরাম পোস্টিং রিলেটেড কাজ।


Customer support 


কাস্টমার সাপোর্ট রিলেটেড যে কাজ গুলো রয়েছে সেগুলো আচ্ছা ফোন সাপোর্ট টেলিফোন হ্যান্ডেলিং. ট্রানস্ক্রিপশন,ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এরকম কাজগুলো কিন্তু আমরা চাইলে মোবাইল দিয়ে করতে পারি।



মনে করুন বড় একটা কোম্পানি যাদের ফোন সাপোর্ট দরকার। তাদের কাস্টমাররা ফোন করবে একটা নাম্বারে। তখন আপনাকে তারা একটি ভার্চুয়াল নাম্বার দিবে সে নাম্বার দিয়ে আপনি রেসপন্স করবেন। এবং তাদের সাথে কমিউনিকেট করে দেবেন। তাদের কাস্টমার এর যে চাহিদা তাদের যে প্রশ্নগুলো সেগুলো উত্তর দিবেন। এটা কিন্তু আপনি ঘরে বসেই আপনার নিজের হাতে মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন।





Transcription


ট্রানস্ক্রিপশন মূলত ট্রান্সলেটের রিলেটেড কাজের মতই। এখানে শুধু ক্লায়েন্ট আপনাকে একটি বড় অডিও ফাইল  বা ভিডিও ফাইল দিবে। সেগুলো আপনাকে শুনে শুনে বা দেখে দেখে লিখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় যে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম সেমিনার হয়। অনলাইন লাইভ ওয়েবিনার হয়। দেখা যায় এগুলো থেকে একটা ভিডিও দিয়ে দিল। তখন আপনাকে সেই ভিডিও  সংলাপ গুলো  শুনে শুনে লিখে দিতে হবে। এগুলো মূলত ট্রান্সক্রিপশনের কাজ।



ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট


ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর নির্দিষ্ট কোন  সীমারেখা নেই। মনে করুন আমি একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট রাখলাম এখন তাকে দিয়ে আমি যে কাজ গুলো করবো এক্ষেত্রে আপনিও যদি তাকে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে রাখেন তখন কিন্তু তাকে দিয়ে একই রকম কাজ করাইতে নাও পারেনা। সুতরাং ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে আলাদা ভাবে কিছু বলার নেই। মোবাইল দিয়েও এই ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ গুলো করা যায়।



মুলতো এগুলোই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মোটামুটি ক্যাটাগরিগুলোর। যেগুলো আপনারা আপনার মোবাইল ফোন দিয়ে করতে পারবেন । এর মধ্যে অসংখ্য ক্যাটাগরি সাব-ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলো আপনারা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে গেলেই দেখতে পারবেন। 




উপরে যে ক্যাটাগরির নিয়ে  এতক্ষণ আমরা আলোচনা করলাম সবগুলো যে মোবাইলে একেবারে ১০০ শতাংশ সম্ভব তাও কিন্তু না।



এই কাজগুলোর মধ্যে আপনার যেটা মনে যে এই কাজগুলো আমি মোবাইল দিয়ে শতভাগ করতে পারব সেই কাজগুলো আপনারা চয়েস করতে পারেন।


আপনাদেরকে আমি আবারো বলছি অনলাইনে যে ভিডিও গুলো রয়েছে মোবাইল দিয়ে কিভাবে ইনকাম করা যায় বিকাশে পেমেন্ট এটা সেটা এগুলা কিন্তু 99% ভুয়া। আর যেগুলো সত্যি সেগুলো থেকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য কিছুটা পরিমাণ করতে পারবেন। কিন্তু সেগুলো থেকে কিছু শিখতে পারবেন না আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে পারবেন।



তাই আপনারা এ ধরনের  ভিডিও বা এড দেখে প্রতারিত হবেন না। আপনারা সত্যিকার অর্থেই যদি ইনকাম করতে চান এবং অনলাইন জগতে তথা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সঠিকভাবে করতে চান তাহলে উপরে যে আমি ক্যাটাগরি গুলো নিয়ে আলোচনা সেগুলোই আপনারা আপনাদের পছন্দমত করতে পারেন। এজন্য আপনাদের কোন ল্যাপটপ বা পিসির প্রয়োজন হবে না একটু গুগোল ইউটিউব ঘাটাঘাটি করলেই আপনারা এই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো খুব সহজেই আপনাদের মোবাইল ফোন দিয়েই করতে পারবেন।



তাই আপনারা কখনোই এই ধরনের Spam ভিডিও গুলোতে পা দিবেন না। কিছু একটা শিখুন নিজের স্কিল ডেভেলপ। মার্কেটপ্লেসে নিজের ক্যারিয়ার গড়। ধানবাদ।


আরো পড়ুন





নবীনতর পূর্বতন